জাপানি গাড়ি শিল্পের সরবরাহ চেইনে উদ্বেগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি জাপানের গাড়ি শিল্পের সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি জাপানের গাড়ি শিল্পের সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ খরচ ও বাজার অনিশ্চয়তার কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের তাকাসাকিতে অবস্থিত কিওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল নামের যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শুল্কসংকটে বিপাকে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১২০ কর্মী নিয়ে মূলত প্রটোটাইপ ও রেসিং কারের যন্ত্রাংশ তৈরি করে।

কিওয়ার তৃতীয় প্রজন্মের প্রধান হিরোকো সুজুকি বলেন, ‘এ শুল্কনীতি আমাদের ব্যবসার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি করে না কিওয়া। কিন্তু হিরোকো সুজুকি মনে করছেন, গাড়ি নির্মাতারা হয়তো শুল্কের বোঝা সরবরাহকারীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। যদিও এখনো তাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেনি।

জাপানের গাড়ি শিল্প দীর্ঘদিন ধরে মোনোজুকুরি নামক নীতিতে পরিচালিত হয়ে আসছে, যার অর্থ হলো দক্ষতা ও নিখুঁতভাবে পণ্য তৈরি করা। টয়োটা উদ্ভাবিত উৎপাদন পদ্ধতির মাধ্যমে জাপান এ খাতে বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। তবে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বাজারের সম্প্রসারণে বর্তমানে সফটওয়্যার-ভিত্তিক প্রযুক্তির চাহিদা বেড়েছে, যেখানে চীন ও টেসলার মতো কোম্পানির আধিপত্য রয়েছে।

পরিস্থিতি অনুধাবন করে কিওয়া ২০১৬ সাল থেকে নিউরোসার্জারির যন্ত্র তৈরি শুরু করে ও ২০২৩ সালে তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি শুরু করে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি সে যন্ত্রের ওপরও প্রযোজ্য হওয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা মার্কিন গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ককে ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ সংকট মোকাবেলায় আলোচনা করতে দেশটির প্রধান বাণিজ্য প্রতিনিধি রিওসেই আকাজাওয়া ওয়াশিংটনে গেছেন।

টয়োটা, নিশান ও ফোর্ড—এ তিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারীদের সহযোগিতার আহ্বান জানালেও সরাসরি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। নিশান কিছুদিনের জন্য শুল্কের আংশিক বোঝা বহনের কথা বললেও ভবিষ্যতে সে সুবিধা ফিরিয়ে নেয়ার কথাও জানিয়েছে।

টয়োটা জানিয়েছে, তারা সরবরাহকারীদের আর্থিক চাপ বুঝতে পারছে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে চায়। ফোর্ড বলেছে, তারা পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং দরকার হলে পণ্য সংগ্রহ ও উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বাণিজ্য সংকট জাপানের গাড়ি শিল্পে একত্রীকরণ বা একসঙ্গে কাজ করার প্রবণতা বাড়াবে। টিকে থাকতে হলে বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

আরও